সময় বাঁচানো ৫ ফ্রি ব্রাউজার টুলস
• ৪ মিনিট
Table of Contents
সম্প্রতি আমি আমার সব কাজ ক্লাউড-নির্ভর করে ফেলেছি। এমন কিছু ওয়েব অ্যাপ খুঁজে পেয়েছি যা ভারী কাজগুলো সহজে সেরে দেয়, অথচ কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে এক বাইট জায়গাও দখল করে না।
ঝামেলাপূর্ণ কাজ স্বয়ংক্রিয় করার কোনো বিশেষায়িত ইউটিলিটি হোক, কিংবা দামি সাবস্ক্রিপশনের বিকল্প হিসেবে কাজ করা চমৎকার কোনো টুল—এই ব্রাউজার-ভিত্তিক অ্যাপগুলো প্রতি সপ্তাহে আমার ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় বাঁচায়।
এক্সক্যালিড্র: মুহূর্তের মধ্যে স্কেচ
প্রথমবার এক্সক্যালিড্র (Excalidraw) দেখে মনে হয়েছিল এটি খুব বেশি ‘হাতে আঁকা’, হয়তো পেশাদার কাজের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। জটিল কোনো ধারণা বা কনসেপ্ট দৃশ্যমান করতে হলে এখন এটিই আমার প্রথম পছন্দ।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এতে কোনো ঝামেলা নেই। অ্যাকাউন্ট খুলতে হয় না, ‘প্রো’ ভার্সনের নামে কোনো ফিচার লক করে রাখা নেই, আর নতুন করে শেখারও কিছু নেই। শুধু ওয়েবসাইটে ঢুকেই আঁকা শুরু করা যায়।
এর স্কেচি লুকটি বেশ অনন্য। সত্যি বলতে, এটি আমার কাজ দ্রুত করতে সাহায্য করে। যেহেতু এটি ফরমাল কর্পোরেট প্রেজেন্টেশনের মতো দেখায় না, তাই প্রতিটি লাইন পিক্সেল-পারফেক্ট করার চাপ থাকে না। এটি আমাকে ‘ডিজাইনিং মোড’-এর বদলে ‘ব্রেইনস্টর্মিং মোডে’ রাখে।
স্টার্লিং-পিডিএফ: ব্যক্তিগত পিডিএফ পাওয়ারহাউস
স্টার্লিং-পিডিএফ (Stirling-PDF) মূলত লোকালি-হোস্টেড একটি শক্তিশালী টুল। অ্যাডোবির জন্য যেখানে টাকা খরচ করতে হয়, সেখানে এর সব ‘প্রো’ ফিচার পাবেন একদম ফ্রিতে এবং ১০০% গোপনীয়তার সাথে।
এর পুরোনো ইউজার ইন্টারফেস (UI) নিয়ে কোনো অভিযোগ ছিল না, তবে নতুন রিডিজাইন একে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। পরিষ্কার ডিজাইন আর চমৎকার আইকনোগ্রাফি—সব মিলিয়ে দারুণ।
আগে তিনটি ফাইল মার্জ করে তারপর কমপ্রেস করতে গেলে বেশ ঝামেলা হতো। মার্জ করা ফাইল ডাউনলোড করে আবার কমপ্রেস টুলে আপলোড করতে হতো। এখন মাল্টি-টুল ওয়ার্কবেঞ্চে ফাইলটি একবার আপলোড করেই সব কাজ চেইন আকারে করা যায়। ফাইলটি ব্রাউজারের লোকাল স্টোরেজেই থাকে।
এটি মাত্র একটা উদাহরণ। স্টার্লিং-পিডিএফে এমন অনেক পিডিএফ এডিটিং ফিচার আছে যা আপনার কাজের গতি বাড়াবে। ওপেন-সোর্স প্রজেক্ট হিসেবে এটি এতটাই গোছানো যে সচরাচর এমনটা দেখা যায় না।
আইটি-টুলস: ডেভেলপারদের সব সলিউশন এক ছাদের নিচে
আইটি-টুলস (IT-Tools) সবকিছুকে একটি সুন্দর, ওপেন-সোর্স ড্যাশবোর্ডে নিয়ে এসেছে। সাইটটি ওপেন করলেই ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাজানো ১০০টির বেশি ইউটিলিটি দেখা যায়, যা সহজেই সার্চ করা সম্ভব।
ক্রনট্যাব এক্সপ্রেশন জেনারেট করা, সিএসএস ফাইল মিনিফাই করা, কিংবা ডকার পোস্টের জন্য ইয়ামেল (YAML) স্নিপেট জেসনে (JSON) কনভার্ট করা—সবকিছুর জন্য আর আলাদা আলাদা সাইটে ঘুরতে হয় না। কমান্ড + কে (Cmd + K) চেপে যা প্রয়োজন লিখলেই সাথে সাথে পেয়ে যাই।
এর ইন্টারফেসটি বেশ ভেবেচিন্তে তৈরি। প্রতিদিন যেসব টুল ব্যবহার করি, সেগুলো ‘স্টার’ মার্ক করে বাম দিকের সাইডবারে রেখে দিয়েছি, যাতে সহজেই পাওয়া যায়।
ফটোপিয়া: ফটোশপের মানের ওয়েব এডিটর
প্রথমবার ফটোপিয়া (Photopea) ওপেন করে আমি চমকে গিয়েছিলাম—ভাবলাম ভুল করে বোধ হয় পাইরেটেড ফটোশপ খুলে ফেলেছি। এটি এতটাই ভালো।
লেয়ার, মাস্কিং বা জটিল কম্পোজিটিং—যাই করতে হোক না কেন, এটিই এখন আমার ভরসা। এটি একটি প্রোগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA), তাই এটি ব্যবহার করলে সাধারণ ওয়েবসাইট মনে হয় না—বরং টাস্কবারে থাকা কোনো ‘প্রো এডিটর’ মনে হয়।
ক্লায়েন্ট বা কলিগ পিএসডি ফাইল পাঠালে এখন আর ভারী ডেস্কটপ অ্যাপ লোড হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না। ফাইলটি ট্যাবে ড্র্যাগ করে এনে এডিট শেষ করে ফেলি।
কিবোর্ড শর্টকাটগুলো প্রায় অ্যাডোবির মতোই, তাই নতুন করে হাত সেট করার ঝামেলা নেই।
পেয়ারড্রপ: সব ডিভাইসে ফাইল শেয়ারিং
৫০ এমবির ভিডিও ফাইল গুগল পিক্সেল থেকে ম্যাকবুকে নেওয়া যে কত ঝামেলার, তা ভুক্তভোগীরাই জানেন। ইমেইল করা, ক্লাউডে আপলোড করে আবার ডাউনলোড করা, অথবা ড্রয়ার ঘেঁটে ইউএসবি-সি কেবল খোঁজা—সবই বিরক্তিকর।
এরপর সন্ধান পেলাম পেয়ারড্রপ (PairDrop)-এর। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত এমন এক ‘এয়ারড্রপ’, যা আরও কয়েক বছর আগেই আসা উচিত ছিল। এটি ওপেন-সোর্স, ওয়েব-ভিত্তিক ফাইল-শেয়ারিং টুল যা যেকোনো ব্রাউজারে চলে।
এটি ওয়েবআরটিসি (WebRTC) প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তাই ফাইল কোনো ক্লাউড সার্ভারে আপলোড হয় না। সরাসরি লোকাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক ডিভাইস থেকে অন্যটিতে ট্রান্সফার হয়।
ব্রাউজারই আমার অপারেটিং সিস্টেম
ডেস্কটপ-নির্ভর ভারী সফটওয়্যার ছেড়ে হালকা, ব্রাউজার-ভিত্তিক ইউটিলিটিতে আসার মূল কারণ—কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা। কাজের পুরো প্রক্রিয়া ব্রাউজারে নিয়ে এলে ইনস্টলেশন, কম্প্যাটিবিলিটি আর ঘন ঘন আপডেটের ঝামেলা থাকে না। ম্যাক, উইন্ডোজ বা লিনাক্স—যেকোনো মেশিনে কাজ করার সময় অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয় না।
সাধারণ অ্যাপসের চেয়ে এখানে অনেক দ্রুত এক কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়া যায়। পিডিএফ ম্যানেজমেন্ট হোক বা ব্রেইনস্টর্মিং—সঠিক বুকমার্ক সেট করা থাকলে ব্রাউজার উইন্ডোই আপনার মূল ‘কমান্ড সেন্টার’-এ পরিণত হবে।