skip to content

গুলবাহার

বাড়িতে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রিয়জনকে সহায়তার ৫ উপায়

• 3 min read

বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়ে থাকা অনেক পরিবারের জন্যই একটি বড় সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রায় এক কোটি নয় লাখ মানুষ এখন তরুণ প্রজন্মের আত্মীয়দের সঙ্গে বসবাস করছেন। এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক, কারণ এতে বয়োজ্যেষ্ঠরা নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তি পান এবং একজন সঙ্গী পান। তবে যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকলে বাড়িতে কিছু সমস্যাও দেখা দিতে পারে, যা বয়োজ্যেষ্ঠদের স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধার সৃষ্টি করে।

আপনার বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয় বাড়িতে সক্রিয় থাকুন এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করুন—এমনটা চাইলে তাঁদের সহায়তায় নিচে পাঁচটি করণীয় উল্লেখ করা হলো।

১. চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা

বয়োজ্যেষ্ঠদের ক্ষেত্রে পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটে বাড়িতে, বিশেষ করে সিঁড়িতে বা বাথরুমে। তাই আপনার বাড়িকে তাঁদের চলাচলের জন্য সুবিধাজনক বা অ্যাকসেসিবল করে তুলতে হবে। ছোটখাটো পরিবর্তনও বড় ধরনের আঘাতের ঝুঁকি কমাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, টয়লেটের পাশে এবং শাওয়ারে ধরে দাঁড়ানোর জন্য ‘গ্র্যাব বার’ লাগানো যেতে পারে। এছাড়া বাড়িতে লিফট বা রেসিডেনশিয়াল এলিভেটরের ব্যবস্থা করা গেলে তা সিঁড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমাবে এবং একই সঙ্গে আপনার বাড়ির মূল্যও বাড়াবে।

২. চলাফেরার সরঞ্জাম

অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি চলাফেরার সহায়ক সামগ্রী বা মবিলিটি এইড ব্যবহার করতে চান না, বিশেষ করে নিজের বাড়িতে। কিন্তু এসব সরঞ্জাম তাঁদের স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, হাঁটার লাঠি বা জিমার ফ্রেমের মতো উপকরণটি আপনার প্রিয়জনের জন্য উপযুক্ত এবং এটি ঘরের ভেতরে ও বাইরে—উভয় ক্ষেত্রেই তাঁকে সাহায্য করবে। কোনটি কিনবেন তা নিয়ে নিশ্চিত না হলে তাঁদের চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন। তাঁরা সঠিক উপকরণটি বেছে দিতে এবং ব্যবহারের সময় কোনো অস্বস্তি বা ভারসাম্যহীনতা কাজ করছে কি না, তা বুঝতে সাহায্য করবেন।

৩. দৈনন্দিন কাজে সাহায্য

বার্ধক্য বা বৃদ্ধ বয়স অনেক সময় কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যারা একসময় খুব কর্মঠ ছিলেন এবং সংসারের হাল ধরেছিলেন, তাঁদের জন্য। তাই যদি দেখেন আপনার বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয় কোনো ঘরের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তাহলে তাঁকে সাহায্য করার প্রস্তাব দিন। এটি তাঁদের স্বাস্থ্যগত কোনো সমস্যা নিয়ে কথা বলার সুযোগও তৈরি করে দিতে পারে, যার কারণে হয়তো তাঁদের কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সমস্যা সাময়িক হয়। তবে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করলে আপনার বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয় নিজেকে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করবেন এবং আপনাদের মধ্যে যোগাযোগের পথও সহজ হবে।

৪. স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করা

বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয়কে দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করা ভালো, তবে সব কিছুতে আগ বাড়িয়ে নিজেকে জড়ানো বা তাঁদের হয়ে সব কাজ করে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। স্বাধীনতা বা স্বকীয়তা হারানো বয়োজ্যেষ্ঠদের অন্যতম বড় ভয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা ডিমেনশিয়ার মতো রোগের অগ্রগতি দ্রুত করতে পারে এবং বিষণ্ণতার মতো মানসিক সমস্যারও সৃষ্টি করতে পারে।

চলাচলের সুবিধা ও সহায়ক সরঞ্জাম থাকলে আপনার বাড়ি তাঁদের জন্য চলাচল বা নেভিগেট করা সহজ হবে। তাই যখনই সম্ভব, তাঁদের বাড়ির ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করুন।

৫. কথা বলুন ও সঙ্গ দিন

‘হেলদি এজিং পোল’ অনুযায়ী, প্রতি তিনজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির মধ্যে একজন একাকীত্বে ভোগেন। তাই একই বাড়িতে থাকলেও বয়োজ্যেষ্ঠ প্রিয়জনকে দীর্ঘক্ষণ একা রাখা উচিত নয়।

নিয়মিত গল্পগুজব বা আড্ডা তাঁদের সংযুক্ত বোধ করতে সাহায্য করে এবং একাকীত্ব কমায়। এমনকি এটি আলঝেইমারের মতো রোগের কারণে সৃষ্ট স্নায়বিক অবক্ষয়ের গতি কমাতেও সাহায্য করে বলে দেখা গেছে। এছাড়া নিয়মিত কথা বললে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ রাখা যায় এবং অস্পষ্ট উচ্চারণ বা যোগাযোগে সমস্যার মতো কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে তা দ্রুত নজরে আসে।

প্রাসঙ্গিক