সঙ্গীত আর ঘ্রাণ—এই দুটি জিনিস অতীতের কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তকে পুনরায় অনুভব করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। জীবনের কোনো একটি বিশেষ সময়ের গান শুনলে অনেক সময় ছবির চেয়েও স্পষ্টভাবে সেই সময়ের আবেগগুলো মনে পড়ে যায়। এমনকি সেই গানটি শোনার সময় আমি ঠিক কী করছিলাম বা কোন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম, তাও মাঝে মাঝে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
গত ১০ বছর ধরে আমি একটি পদ্ধতি অনুসরণ করছি, যা দিয়ে যেকোনো বছরের যেকোনো স্মৃতিকে আবারও নতুন করে অনুভব করা যায়।
প্রতি বছরের ১ জানুয়ারি ডেস্কটপ বা ওয়েব ভার্সন থেকে আমি যা করি:
- নতুন প্লেলিস্ট তৈরি করি: নাম দিই সদ্য শেষ হওয়া বছরের।
- লাইক করা সব গান কপি করে ওই প্লেলিস্টে পেস্ট করি। এতে গানের ক্রম ঠিক থাকে।
- লাইকড সংস (Liked Songs) তালিকাটি খালি করে ফেলি।
- ব্যাকআপ সংরক্ষণ করি: স্পটিফাই অ্যাকাউন্টে কোনো সমস্যা হলেও যাতে প্রিয় গানগুলো হারিয়ে না যায়, সেজন্য সব গান সিলেক্ট করে গুগল ড্রাইভের একটি শিটে পেস্ট করে রাখি।
- নতুন গান শুনতে শুরু করি এবং বছরজুড়ে পছন্দের গানগুলোতে লাইক দিতে থাকি।
বছরজুড়ে যখন লাইক করা গানগুলো শুনি, সাধারণত শাফল (shuffle) ছাড়াই ওপর থেকে শুরু করি। নতুন সংরক্ষিত গানগুলোই যেহেতু ওই সময়ে সবচেয়ে পছন্দের থাকে, তাই এটিই স্বাভাবিক। সময়ের সাথে সাথে এভাবে লাইক করা গানের একটি “রোলিং উইন্ডো” তৈরি হয়, যা নির্দিষ্ট সঙ্গীতকে নির্দিষ্ট তারিখের সঙ্গে যুক্ত করে দেয়।
নিজে খুঁজে পাওয়া পছন্দের গান ছাড়াও রেডিওতে বা আশেপাশে কোথাও ভালো লাগা কোনো গান শুনলে আমি সেটি লাইক দিয়ে রাখি। গানটি প্রথমে পুরোপুরি পছন্দ না-ও হতে পারে, কিন্তু এগুলো স্মৃতি ধরে রাখার জন্য দারুণ “অ্যাঙ্কর পয়েন্ট” হিসেবে কাজ করে। পরে কয়েকবার শুনলে দেখা যায় গানগুলো সাধারণত পছন্দও হয়ে যায়।
নির্দিষ্ট গানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো যাতে অমলিন থাকে, সেজন্য আমি গত হয়ে যাওয়া বছরগুলোর গান বারবার শুনি না বা আবারও লাইক করি না। তবে মাঝেমধ্যে ব্যতিক্রমও ঘটে, বিশেষ করে রিমিক্স গানের ক্ষেত্রে।